নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপিতে যোগ দিয়ে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার পুত্র ড. রেজা কিবরিয়া। কেন্দ্র তাকে মনোনয়ন দিলেও নির্বাচনী এলাকায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তিনি। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি সুজাত মিয়া। বেশ কিছু দিন ধরেই সুজাত মিয়ার মনোনয়ন প্রত্যাহারের গুঞ্জন উঠেছিল। এ নিয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানও তার সঙ্গে কয়েক দিন আগে কথা বলেছেন। তখন আলোচনায় আসে শেখ সুজাত জেলা বিএনপির সভাপতি হচ্ছেন।
এমন আশ্বাসে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন; কিন্তু অবশেষে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। ফলে তিনি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সুজাত মিয়া জেলার ৪টি আসনের মধ্যে একমাত্র বিদ্রোহী প্রার্থী। এছাড়া জামায়াত প্রার্থীসহ হবিগঞ্জে ৪ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তারা হলেন- হবিগঞ্জ-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী মো. শাহজাহান আলী, হবিগঞ্জ-২ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী নোমান আহমদ সাদিক, হবিগঞ্জ-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের চৌধুরী আশরাফুল বারী নোমান, হবিগঞ্জ-৪ আসনে এবি পার্টির মো. মোকাম্মেল হোসেন।
প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। তিনি জানান, ২৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই ও আপিল শেষে ২৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ৪ প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। বর্তমানে ২৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।
রেজা কিবরিয়ার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার জলালশাপ গ্রামে। তিনি ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন।
শেখ সুজাত মিয়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি হবিগঞ্জ-১ থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১১ সালে দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।